>ইচ্ছে ছিলো / হেলাল হাফিজ

ইচ্ছে ছিল……

...শব্দছেঁড়া কবিতারা...

>


ইচ্ছে ছিলো তোমাকে সম্রাজ্ঞী করে সাম্রাজ্য বাড়াবো
ইচ্ছে ছিলো তোমাকেই সুখের পতাকা করে
শান্তির কপোত করে হৃদয়ে উড়াবো।

ইচ্ছে ছিলো সুনিপূণ মেকআপ-ম্যানের মতো
সূর্যালোকে কেবল সাজাবো তিমিরের সারাবেলা
পৌরুষের প্রেম দিয়ে তোমাকে বাজাবো, আহা তুমুল বাজাবো।

ইচ্ছে ছিলো নদীর বক্ষ থেকে জলে জলে শব্দ তুলে
রাখবো তোমার লাজুক চঞ্চুতে,
জন্মাবধি আমার শীতল চোখ
তাপ নেবে তোমার দু’চোখে।

ইচ্ছে ছিল রাজা হবো
তোমাকে সাম্রাজ্ঞী করে সাম্রাজ্য বাড়াবো,
আজ দেখি রাজ্য আছে
রাজা আছে
ইচ্ছে আছে,
শুধু তুমি অন্য ঘরে।

View original post

Advertisements
Posted in Uncategorized | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

মিডিয়া ট্রায়াল

ক’দিন ধরে ফেসবুকে একটা খবর আর ছবি নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। এক প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষিকা ক্লাসরুমে টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছেন।

শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন, যে কোন কর্মস্থলে কাজের সময়ে ঘুমানো অফিসের নিয়মের বরখেলাপ, এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু তার বিচার এবং প্রতিকারের দায়িত্ব কি আমার, আপনার, না সংশ্লিষ্ট অফিসের? এই কথায় আমরা অনেকেই নড়েচড়ে বসবো, ভ্রূ কুঁচকাবো, বলবো – এ কি বলছেন আপনি?

যে কোন মানুষের মানবিক দুর্বলতা আছে, এ থেকে আমরা কেউই মুক্ত নই, এমন কি মহামানব পর্যন্ত। শারীরিক দুর্বলতা এবং কিছু ভুলচুক এই পর্যায়ে পড়ে। চলুন, ভেবে দেখি আমাদের নিজের কথা। অফিস চলাকালে আমরা কি কখনো মোবাইল ফোনে কথা বলিনি? এমনকি অফিসের ফোন ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করিনি? অফিসের কাজের সময়ের পুরো সময় ৬ থেকে সাড়ে ৭ ঘন্টা অফিসের কাজেই ব্যয় করেছি, ওয়াশরুমে যাওয়া এবং লাঞ্চ করা ছাড়া আর কোন ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় করিনি এ কথা হলপ করে বলতে পারবো কি ?

না। আমরা কেউই তা করি না। তাইলে ঐ শিক্ষিকার ক্ষণিকের দুর্বল অবস্থার ছবি তুলে পত্রিকায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে কি আত্মতৃপ্তিটা আমরা পেতে চাইছি? উনি অন্যায় করেছেন, আমি ভাল, এই তো ?

কোন অন্যায় সঙ্ঘটিত হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি তার প্রতিকার চাইতে পারেন; তিনি একজন ব্যক্তি হতে পারেন, বা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় হলে যে কেউ অভিযোগ করতে পারেন। কিন্তু নিজেই তার বিরুদ্ধে খবর এবং ছবি জনসমক্ষে প্রকাশ করা কতটুকু বিবেক ও রুচিসম্মত? এবং আইনসম্মত?

কথাটা শুধু আমারই নয়, মিডিয়া ট্রায়ালের বিষয়টা আজকাল অনেকের মুখেই উচ্চারিত হচ্ছে। এতে কোন ঘটনার গভীরে না নিয়ে,  তাতক্ষণিকভাবে একজন মানুষকে বিচার করতে বসে যাই আমরা। এতে আদালতের বিচারের আগেই বিচার হয়ে যায়।

এই ছবিটা চাউর করার মাধ্যমে একজন ব্যক্তির প্রাইভেসী লঙ্ঘন করা হয়েছে। প্রাইভেসী বিষয়টা আমরা বাংলাদেশীরা বা পাক-ভারত-বাংলাদেশের লোকজন আসলেই বুঝি না, বুঝলেও আমল দেই না। কিন্তু আইনে এর সুরক্ষার ব্যবস্থা আছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই আইনে আদালতের সুরক্ষা চাইতে পারেন, এবং লঙ্ঘনকারীর বিরূদ্ধে মানহানির মামলা করতে পারেন। আমরা এমনই এক স্টুপিড জাতি, যারা নিজের অনেক  গোপনীয় তথ্য পাবলিক প্লেসে জোরে কথা বলে জানিয়ে দিই, আর অন্যজনের ত্রুটি হলে তো কথাই নেই।

আসুন, অন্যকে তাৎক্ষণিকভাবে বিচার করার এবং এ থেকে তৃপ্তি নেওয়ার, ফায়দা লুটার নীচু মানসিকতা থেকে আমরা সতর্ক হই।

Posted in Uncategorized | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

আশা

অনেক আশা ছিল। স্বপ্ন ছিল।
বেশী কিছু নয়, ঘর বাঁধার স্বপ্ন।
দুজনে হাত ধরে চলা। অবাস্তব কিছু নয়, যা পূরণ সুদুরপরাহত, না তেমন কিছু নয়।

আশা আর স্বপ্নেরা থেমে থাকে না, সময়ের সাথে বদলে যায়। কঠিন বাস্তবের পাথরে ঠোকর আর হোঁচট খেয়ে ভুলে যায় ওরা, কি ছিল স্বপ্ন। নিয়তি তাই, যা যথাসাধ্য চেষ্টার পরেও অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছুতে দেয় না, বাসনা পূরণ করে না। তবু অপবাদের দায় নিয়ে বাঁচতে হয় – অযোগ্য।

ছেলেবেলার খেলাগুলো মনে পড়ে শুভ্রর – তিনপায়ে দৌড়, পিছে হাতবাঁধা অবস্থায় সুতোয় ঝুলে থাকা বিস্কুট মুখে পুরে নেওয়ার প্রতিযোগিতা। তাহলে ছেলেবেলা থেকেই কি আমাদের ভাবতে শিখানোর চেষ্টা ছিল জীবনটা এরকমই ? তিনপায়ে দৌড়ুতে দৌড়ুতে মুখ থুবড়ে পড়া? বা অসহায়ভাবে রুজী রোজগারের র‍্যাট-রেস ? হায় শুভ, তুমি কি কিছুই শেখোনি? বুঝনি?

তারপর মাঠের মাঝখান থেকে তোমার সহযোগী পায়ের বাঁধন খুলে নিজের দুপায়ে ভর দিয়ে উঠে চলে গেল? হাত ধরে টেনে তুললো না তোমাকে?

সবই ক্ষণিকের আবেগ, গ্রীষ্মের উত্তপ্ত খরবায়ুর ঝাপ্টায় বসন্তের মলয় বিদায় নেয়। ঝড়ো হাওয়ায় উড়তে থাকে ধুলো, মাটিতে অবহেলায় পড়ে থাকে বিবর্ণ ঝরা পাতা।

শুনো, এ নিয়তির কথা লেখা আছে মহাগ্রন্থে। গ্রীক বা হিন্দু পুরাণেও। শুভ্র, তুমি চোখ-খোয়ানো ইডিপাস। তুমি মঞ্চে পড়ে থাকা মৃত সৈনিকের উল্লম্ব প্রতিরূপ। মৃত্যুই এখন তোমার কাম্য।

Posted in Uncategorized | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

বিটিভির নাটক

তখন বিটিভি একমাত্র টিভি চ্যানেল ছিল বাংলাদেশে, পরিবেশনাও ছিল ভাল। অন্ততঃ আজকের দিনে অগুণতি চ্যানেলের সাথে তুলনায় খারাপ কোনভাবেই বলা যাবে না।

সপ্তাহে দু’টো দিন নাটক হত, মঙ্গলবার আর রবিবার, বা এরকম কিছু। ‘এ সপ্তাহের নাটক’ সপ্তায় একবার হত, চেষ্টা ছিল ভালো নাটক উপহার দেওয়ার। আরো ছিল ‘এ মাসের নাটক’ – এক ঘন্টার বেশী সময় নিয়ে। খাওয়া-দাওয়া সারার পর খুব আগ্রহ নিয়ে পরিবারের সবাই মিলে ড্রইং রুমে বসে সে নাটক উপভোগ করত সবাই। বক্তব্য ছিল, সমাজের প্রতিফলন ছিল।

তখন স্বনামধন্য কয়েকজন নাট্যকার ছিলেন, তাঁদের মুন্সীয়ানার ছাপ ছিল নাটকে। জনাব আতিকুল হক চৌধুরী, প্রয়াত আব্দুল্লাহ আল-মামুন, মামুনুর রশীদ, বেগম মমতাজ হোসেন – এনাদের কথাই মনে পড়ছে এ মুহুর্তে। আতিকুল হক চৌধুরীর ‘দুরবীন দিয়ে দেখুন’, ‘আয়নায় বন্ধুর মুখ’, ‘বাবার কলম কোথায়’ – চমৎকার বক্তব্যধর্মী নাটক ছিল। বেগম মমতাজ হোসেনের ‘সকাল সন্ধ্যা’ অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল সে সময়ে। মধ্যবিত্ত পরিবারের সুখ-দুঃখ, হাসিকান্না নিয়ে এই নাটক এখনো মনে করি অন্য যে কোন ভালো নাটককে হারিয়ে দেবে। ‘এখানে নোঙর’, ‘এখন জোয়ার’ এই দু’টি লিখেছিলেন মামুনুর রশীদ। মনকাড়া পরিবেশনা।

অনেক বিদেশী গল্পের অনুবাদ নিয়েও নাটক দেখান হত; এদের মধ্যে দু’তিনটার কথা মনে পড়ছে – ‘ইডিয়ট’, ‘সৎ মানুষের খোঁজে’, ‘মাঙ্কি’স প (Monkey’s paw) । যদি পান, দেখতে ভুলবেন না যেন !

এরপর আসে সিরিজ নাটকের পালা। সিরি’জ নাটকই বলা হত তখন, সিরিয়াল নয়। আমাদের স্বকীয়তা ছিল, এত অনুকরণপ্রিয় ছিলাম না। ‘ আজ-কাল-পরশু’, ‘ঢাকায় থাকি’ সিরিজগুলি ছিল মোটামুটি মানের। কয়েকটা সিরিজের কথা এখনো ভুলিনি – ‘লাল মাটি কালো ধোঁয়া’, ‘সংশপ্তক’, ‘অয়োময়’ – এই নাটকগুলো মানের বিচারে এখনো স্বমহিমায় উদ্ভাসিত থাকবে।

আমাদের মূল্যবোধ ছিল, চিন্তার সমৃদ্ধি ছিল। গড্ডালিকা প্রবাহে তখনো আমরা ভেসে যাইনি। একটা সুন্দর সময় আর পরিবেশ পেয়েছিলাম আমরা আমাদের বাল্যকালে, তারুণ্যে, কৈশোরে।

হারিয়ে গেছে সেসব উজ্জ্বল দিনগুলো ……

Posted in Uncategorized | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

দুঃখের আরেক নাম হেলাল হাফিজ

 

আমাকে স্পর্শ করো, নিবিড় স্পর্শ করো নারী।
অলৌকিক কিছু নয়,
নিতান্তই মানবিক যাদুর মালিক তুমি
তোমার স্পর্শেই শুধু আমার উদ্ধার।
আমাকে উদ্ধার করো পাপ থেকে,
পঙ্কিলতা থেকে, নিশ্চিত পতন থেকে।
নারী তুমি আমার ভিতরে হও প্রবাহিত দুর্বিনীত নদীর মতন,
মিলেমিশে একাকার হয়ে এসো বাঁচি
নিদারুণ দুঃসময়ে বড়ো বেশি অসহায় একা পড়ে আছি।
তুমুল ফাল্গুন যায়, ডাকে না কোকিল কোনো ডালে,
আকস্মিক দু’একটা কুহু কুহু আর্তনাদ
পৃথিবীকে উপহাস করে।
একদিন কোকিলেরো সুসময় ছিলো, আজ তারা
আমার মতোই বেশ দুঃসময়ে আছে
পাখিদের নীলাকাশ বিষাক্ত হয়ে গেছে সভ্যতার অশ্লীল বাতাসে।
এখন তুমিই বলো নারী
তোমার উদ্যান ছাড়া আমি আর কোথায় দাঁড়াবো।
আমাকে দাঁড়াতে দাও বিশুদ্ধ পরিপূর্ণতায়,
ব্যাকুল শুশ্রুষা দিয়ে আমাকে উদ্ধার করো
নারী তুমি শৈল্পিক তাবিজ,
এতোদিন নারী ও রমনীহীন ছিলাম বলেই ছিলো
দুঃখের আরেক নাম হেলাল হাফিজ।

 

Posted in Uncategorized | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

RESOLVE network

Democracy and Sharia in Bangladesh: Surveying Support
বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও শরীয়াহ আইন প্রয়োগ বিষয়ে জনমত যাচাই করতে RESOLVE network নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ বছরের এপ্রিল মাসে এক জরিপ চালায়। এর ফলাফল “Democracy and Sharia in Bangladesh: Surveying Support” শীর্ষক পেপারে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।
জরীপের লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র সম্মন্ধে জনগণের ধারণা বিশ্লেষণ করা, এবং গণতন্ত্রের ধারণাপুষ্ট জনগণ শরীয়া আইনকে কি দৃষ্টিতে দেখে তা নিরীক্ষণ করা।
আমেরিকার ইলিনয় স্টেটের Department of Politics and Government এর প্রফেসর আলি রিয়াজ এবং বাংলাদেশের BRAC Institute of Governance and Development এর সিনিয়র রিসার্চ এসোসিয়েট সাইয়েদা সেলিনা আজিজ যৌথভাবে এই গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। 
জরিপে মূল যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, তা হলো –  বাংলাদেশীরা গণতান্ত্রিক রীতিনীতি এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে অত্যন্ত মূল্য দেয়; বর্তমানে শাসনব্যবস্থা তাদের আশা পূরণ করেনি। বর্তমান গণতন্ত্র চর্চায় তারা আস্থা রাখতে না পারায় শরীয়া পদ্ধতিসহ অন্যান্য বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছে, যাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনা যায় এবং দুর্নীতি রোধ করা যায়।
আশি শতাংশেরও বেশী উত্তরদাতা+দাত্রী বিশ্বাস করেন যে, শরীয়া আইন মৌলিক চাহিদা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সুবিচার নিশ্চিত করবে, এবং দুর্নীতি নিরুৎসাহিত করবে।  যদিও অমুসলিমরা শরীয়া আইন কমই সমর্থন করে, তবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অমুসলিম উত্তরদাতা-দাত্রী শরীয়া আইনের কিছু দিক সমর্থন করে,  যেমন আইন লংঘনের কারণে কড়া শাস্তি প্রয়োগ।
গণতন্ত্র ও শরীয়া আইন একসাথে চলতে পারে না – এই প্রচলিত ধারণাকে নাকচ করেছে জরীপের ফলাফল। বরং ফলাফলে দেখা গেছে যে, গণতান্ত্রিক রীতিনীতি এবং শরীয়া আইন একই সাথে বলবৎ থাকতে পারে।
গ্রামের উত্তরদাতা-দাত্রীরা শহরের উত্তরদাতা-দাত্রীদের চাইতে বেশী হারে শরীয়া আইন সমর্থন করে। চুরি, ডাকাতি  হিসেবে শরীয়া আইনের কঠোর শাস্তির নিয়ম যেমন চাবুক দিয়ে প্রহার, হাত কাটাকে ৫০% এর বেশী মানুষ সমর্থন করেছে; ব্যভিচারের শাস্তি পাথর নিক্ষেপকে  সমর্থন জানিয়েছে ৬০% উত্তরদাতা-দাত্রী। এরকম কঠোর শাস্তির বিরোধিতা করেছেন প্রথমোক্ত ক্ষেত্রে ১৩% আর ব্যভিচারের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ।
প্রায় ৮,০০০ লোকের উপর জরীপ চালানো হয়েছিল। জরীপের উত্তরদাতা-দাত্রীদের মধ্যে ৭৫% গ্রামে এবং ২৫% শহরে অবস্থানকারী ছিল। নারী ও পুরুষের অনুপাত ৫০% – ৫০% । অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ৩৮ বছর। শতকরা ২৯ ভাগ শিক্ষিত ছিল না, ৫৮% ক্লাস টেন পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে, ৯% উচ্চমাধ্যমিক শ্রেনী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে, ৪% এর গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী ছিল।
এ পর্যন্ত আমরা দেখতে পাই, শরীয়া আইনের প্রতি জনগণের সমর্থন রয়েছে। তবে এ-ও দেখা গেছে, শিক্ষার হার বাড়ার সাথে  রাজনীতিতে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকার প্রতি সমর্থন কমে যায়। সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত্রা গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের প্রতি বেশী ঝুঁকে। আরো দেখা গেছে, উচ্চশিক্ষিতেরা শরীয়া আইনের কঠোর শাস্তিবিধিকে কম সমর্থন করে।
জরীপের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে গবেষক দুজনের পর্যবেক্ষণ এই যে, দুর্বল গণতান্ত্রিক চর্চা, বিচারবিভাগের স্বাধীনতার অভাবে শরীয়া আইনের চাহিদা বেড়ে গেছে।
RESOLVE network সহিংস আন্দোলন ও চরমপন্থার কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা চালিয়ে থাকে। এ কথা আপনারা লক্ষ্য করেছেন যে, শিক্ষার হার বাড়ার সাথে রাজনীতি ও বিচারপদ্ধতিতে ধর্মের প্রভাব কমার কথা এই গবেষণাপত্রে উঠে এসেছে।
সেকুলার শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য এটাই – সমাজ ও রাজনীতি থেকে ধর্ম ধীরে ধীরে মুছে ফেলা।
আপনারা নিজেরা এই গবেষণাপত্রটা পড়ে দেখতে পারেন।
Posted in Politics, Religion, Reasearch | Tagged , | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

সৌদী নারীদের গাড়ী চালানো

সৌদী আরবের নারীরা গাড়ী চালানোর অনুমতি পাচ্ছেন। দেশটির বাদশাহ সালমান এ সংক্রান্ত একটি ডিক্রী জারী করেছেন। ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে তা কার্যকর হবে। বিশ্বে একমাত্র সৌদী নারীদেরই ড্রাইভ করার অনুমতি ছিল না।

আরবে যখন ইসলাম পুরোপুরিভাবে কায়েম হয়, তখন গাড়ী ছিল না। দেড় হাজার বছর আগে আজকের শিল্পোন্নত জগতের আবিষ্কারগুলোর সিংহভাগই অস্তিত্ব লাভ করেনি।  কিন্তু যে জীবনব্যবস্থা কেয়ামত পর্যন্ত চলবে, তাতে মূলনীতি ছিল মানুষ কিভাবে চলবে।

যানবাহন চালানোর মধ্যে মুসলমান সমাজের জন্য ক্ষতিকর কিছু থাকতে পারে, এ বড় কষ্টকল্পিত ভাবনা। নারীর হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা অর্পণ করার বিপক্ষে ইসলামে অনেক যুক্তি আছে, ফিকাহবিদেরা এ নিয়ে অনেক আলোচনা করেছেন। সে বিশাল সমুদ্রে এখন অবগাহন না করে এটুকু অন্ততঃ বলা যায়, মেয়েদের ড্রাইভ করার বিপক্ষে ইসলাম-সম্মত যুক্তি সৌদী আরব কি স্থাপন করতে পেরেছে ?

জানি না, সৌদী আরবে সামাজিক কোন কারণ ছিল কিনা, যার জন্য ওরা মেয়েদের ড্রাইভ করা এতদিন নিষিদ্ধ রেখেছিল, তবে এর জন্য ইসলামী কোন ব্যাখ্যা দাঁড় করানো অনুচিত। এতে নিজেদেরকে, মুসলমানদেরকে, ইসলামকে হাস্যাষ্পদ করা হয়, হয়েছে। বস্তুতঃ সৌদী রাজবংশ ইসলামী লেবেল সেঁটে আশি বছরেরও বেশী সময় ধরে অনৈসলামিক কার্যকলাপ চালিয়ে গেছে।

তবে এ জন্য বাদশাহ মুহাম্মাদ সালমানের উচ্চকিত প্রশংসা করার আগে আরো কিছু দিক ভেবে দেখা উচিত। রক্তপাতহীন প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সালমান ক্ষমতায় এসেছেন। তিনি মাথাগরম যুদ্ধবাজ লোক – ইয়েমেনে যুদ্ধ লাগিয়ে রাখার পিছে এনার অবদান আছে। দেশকে তিনি আমেরিকানাইজেশন করতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। বর্ণবাদী, আগ্রাসনবাদী, মুসলমানদের জাত-শত্রু ইহুদী ইজরায়েলের সাথে সম্পর্ক আপত্তিকরভাবে স্থাপন করছেন। আজকের এই মেয়েদের গাড়ী চালানোর অনুমতি দিয়ে যে ডিক্রী, সেটা হয়তো এই আধুনিকীকরণেরই অংশ।

নাকের বদলে নরুন পেলাম, তাক ধুমাধুম ধুম …

Posted in Uncategorized | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান